বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জলবায়ু ও মশাবাহিত রোগ বিস্তার মানদণ্ডপ্রতি ১ ঘণ্টায় রিয়েল-টাইম লাইভ আপডেট

বাংলাদেশের ডেঙ্গু সতর্কতা — এডিস মশার প্রজনন ঝুঁকি সূচক

বৃষ্টি, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় এডিস মশার প্রজনন ঝুঁকি পরিমাপ। আপনার জেলার ডেঙ্গু ঝুঁকি জানুন ও সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিন।

সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৩:১২ PM
সামগ্রিক জাতীয় প্রজনন ঝুঁকি

জাতীয় ডেঙ্গু ও এডিস মশা বংশবৃদ্ধিঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস

ঝুঁকি মাত্রা: উচ্চ ঝুঁকি (83%)

উচ্চ তাপমাত্রা (২৯-৩২°সে), ৭৮% এর বেশি আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং বিগত মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশে গড় ডেঙ্গু প্রজনন ঝুঁকি স্কোর 83% (উচ্চ ঝুঁকি) চিহ্নিত হয়েছে। বাসাবাড়ির জমে থাকা ডাবের খোসা, টব ও ছাদবাগান পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর জলবায়ুনির্ভর মশাবাহিত রোগ বিস্তার নির্দেশিকা অনুসরণ করে মূল্যায়িত।
দৈনিক এডিস প্রজনন ঝুঁকি লিডারবোর্ড

আজকের সর্বোচ্চ এডিস মশা প্রজনন ঝুঁকি ১০ জেলা

WHO জলবায়ু ও ভেক্টর মানদণ্ড
#1অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
চট্টগ্রাম
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
80%
#2অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
কুমিল্লা
চট্টগ্রাম
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
88%
#3অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
ফেনী
চট্টগ্রাম
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
85%
#4অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
খাগড়াছড়ি
চট্টগ্রাম
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
87%
#5অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
নোয়াখালী
চট্টগ্রাম
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
83%
#6অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
নরসিংদী
ঢাকা
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
88%
#7অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
খুলনা
খুলনা
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
83%
#8অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
কুষ্টিয়া
খুলনা
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
88%
#9অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
মেহেরপুর
খুলনা
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
89%
#10অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি
সাতক্ষীরা
খুলনা
প্রজনন ঝুঁকি
88%
আর্দ্রতা
84%

বিভাগভিত্তিক ডেঙ্গু প্রজনন ঝুঁকি বিশ্লেষণ

বরিশালউচ্চ ঝুঁকি (78%)

এডিসের ঘনত্ব চড়া; দিনেও মশারি ও অ্যারোসল/রিপেলেন্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

চট্টগ্রামউচ্চ ঝুঁকি (83%)

এডিসের ঘনত্ব চড়া; দিনেও মশারি ও অ্যারোসল/রিপেলেন্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

ঢাকাউচ্চ ঝুঁকি (79%)

এডিসের ঘনত্ব চড়া; দিনেও মশারি ও অ্যারোসল/রিপেলেন্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

খুলনাউচ্চ ঝুঁকি (82%)

এডিসের ঘনত্ব চড়া; দিনেও মশারি ও অ্যারোসল/রিপেলেন্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

ময়মনসিংহঅত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি (88%)

মশার প্রজনন চরম আকার ধারণ করেছে; অবিলম্বে লার্ভানাশক স্প্রে করা ও জমা পানি নিষ্কাশন আবশ্যক।

রাজশাহীঅত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি (87%)

মশার প্রজনন চরম আকার ধারণ করেছে; অবিলম্বে লার্ভানাশক স্প্রে করা ও জমা পানি নিষ্কাশন আবশ্যক।

রংপুরঅত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি (88%)

মশার প্রজনন চরম আকার ধারণ করেছে; অবিলম্বে লার্ভানাশক স্প্রে করা ও জমা পানি নিষ্কাশন আবশ্যক।

সিলেটঅত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি (86%)

মশার প্রজনন চরম আকার ধারণ করেছে; অবিলম্বে লার্ভানাশক স্প্রে করা ও জমা পানি নিষ্কাশন আবশ্যক।

বৃষ্টিপাত ও এডিস প্রজনন ঝুঁকির সম্পর্ক

বিগত ৭ দিনের বর্ষণের পর জমা পানি পাত্রে কীভাবে এডিস মশার লার্ভা বংশবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে তার প্রত্যক্ষ বৈজ্ঞানিক গ্রাফ

লার্ভা বিকাশ মডেল
দৈনিক বৃষ্টিপাত (mm)
এডিস প্রজনন ঝুঁকি সূচক (%)

বাৎসরিক ডেঙ্গু প্রজনন মৌসুম চক্র

বাংলাদেশের বর্ষা ও বর্ষা-উত্তর মৌসুমে (জুন-অক্টোবর) এডিস মশার প্রজনন বিস্ফোরণ ও বার্ষিক সংক্রমণ রূপরেখা

পিক ডেঙ্গু প্রজনন মৌসুম (জুন - অক্টোবর)
টানা বর্ষণে বাসাবাড়ির টব, ডাবের খোসা ও নির্মাণ এলাকায় জমে থাকা পানিতে লার্ভার ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়।
শীতকালীন কম ঝুঁকি সময়কাল (নভেম্বর - ফেব্রুয়ারি)
শুষ্ক বাতাসে লার্ভার বিস্তার হ্রাস পায়; তবে বাসাবাড়ির পানির পাত্র ঢেকে না রাখলে সুপ্ত ডিম থেকে বংশবৃদ্ধি বহাল থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ডেঙ্গু প্রজনন ঝুঁকি স্কেল নির্দেশিকা

অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি (৮৫-১০০%)

মশার প্রজনন চরম আকার ধারণ করেছে; অবিলম্বে লার্ভানাশক স্প্রে করা ও জমা পানি নিষ্কাশন আবশ্যক।

উচ্চ ঝুঁকি (৭০-৮৪%)

এডিসের ঘনত্ব চড়া; দিনেও মশারি ও অ্যারোসল/রিপেলেন্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

মাঝারি ঝুঁকি (৫০-৬৯%)

শহরের নির্মাণাধীন ভবন ও জমা পানিতে মশার লার্ভা বৃদ্ধির মাঝারি সম্ভাবনা।

কম ঝুঁকি (< ৫০%)

মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে; স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

বাসাবাড়ি ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ

  • প্রতি ৩ দিনে একবার ডাবের খোসা, টব ও পাত্রের জমা পানি ফেলে দিন।
  • এডিস মশা দিনে কামড়ায়, তাই দিনের বেলায়ও মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।
  • অব্যবহৃত ড্রেন ও ডোবায় লার্ভানাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা নিন।
  • বাড়ির ভেতর ও আশপাশ পরিষ্কার এবং শুকনো রাখুন।

জরুরি চিকিৎসা নির্দেশিকা ও প্যারাসিটামল ব্যবহার

তীব্র হঠাৎ জ্বর (১০১°-১০৪° ফা), চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশিতে প্রচণ্ড কামড়ানি ও শরীরে লাল ছোপ দেখা দিলে দ্রুত ডেঙ্গু NS1 অ্যান্টিজেন টেস্ট করান।

সতর্কতা: শুধুমাত্র প্যারাসিটামল সেবন করুন। কোনো অবস্থাতেই আইবুপ্রোফেন, নাপ্রোক্সেন বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথানাশক খাবেন না—এগুলো রক্তে প্লাটিলেট ধ্বংস করে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তপাত ঘটায়।

আবহাওয়া ও এডিস মশার জীবনচক্রের জৈবিক সম্পর্ক

বাংলাদেশের ক্রান্তীয় বর্ষা জলবায়ুতে ২৯-৩২° সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ৭৮% এর বেশি আর্দ্রতায় এডিস মশার লার্ভা ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপ নিতে সময় নেয় মাত্র ৭-৮ দিন। আমাদের মডেল প্রতিদিনের বৃষ্টিপাতের স্থায়িত্ব, ডাব-টবের পানি জমার হার এবং বায়ুমণ্ডলীয় আর্দ্রতা মেপে বৈজ্ঞানিক ডেঙ্গু প্রজনন ঝুঁকি গণন করে।

কুকিজ ব্যবহার

এই ওয়েবসাইটটি কুকিজ ব্যবহার করে আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে। ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ নীতিতে সম্মত হন। গোপনীয়তা নীতি